
১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন যখন তীব্র রূপ নেয়, তখন এর প্রতিধ্বনি পৌঁছে যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ৫ মার্চ ১৯৭১, শুক্রবার, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পতাকা দাহ করা হয়। কর্মসূচিটি আয়োজন করে ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (East Pakistan Liberation Front)। লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশন (High Commission of Pakistan), লন্ডন (London)–এর সামনে এই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ঘটনার পরদিন ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian) ৬ মার্চ সংখ্যায় এ বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলন বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি আলোচনায় আসে এবং বৈশ্বিক জনমত আকর্ষণ করতে শুরু করে।
এদিকে একই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন কার্যত পূর্ণমাত্রায় চলছিল। ১ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ৫ মার্চও ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে হরতাল, মিছিল ও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় প্রশাসনিক কাঠামো প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আন্দোলনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে শুরু করে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় রাস্তায় সমাবেশ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলতে থাকে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ৫ মার্চ ১৯৭১ ছিল সেই ধারাবাহিক উত্তাল সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, যখন দেশ-বিদেশে একসঙ্গে প্রতিবাদের ধারা শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। লন্ডনে পাকিস্তানের পতাকা দাহ এবং পূর্ব বাংলায় অসহযোগ আন্দোলনের বিস্তার মিলিয়ে দিনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বভূমির একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।